দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বাংলাদেশ-ভারত ছিটমহল বিনিময়ের ১১ বছর পূর্ণ হলেও উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের প্রত্যাশা এখনো পূরণ হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন বিলুপ্ত ছিটমহলের বাসিন্দারা।
২০১৫ সালের ৩১ জুলাই মধ্যরাতে কার্যকর হওয়া ঐতিহাসিক ভূমি সীমান্ত চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশের অভ্যন্তরে থাকা ১৬২টি ছিটমহলের প্রায় ৫৪ হাজার মানুষের ৬৮ বছরের রাষ্ট্রহীন জীবনের অবসান ঘটে। নাগরিকত্ব, ভোটাধিকার, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবাসহ বিভিন্ন মৌলিক অধিকার নিশ্চিত হলেও অনেক এলাকায় উন্নয়নের গতি প্রত্যাশার তুলনায় ধীর বলে দাবি স্থানীয়দের।
চুক্তি অনুযায়ী, ভারতের অভ্যন্তরে থাকা বাংলাদেশের ১১১টি ছিটমহল ১৭ হাজার ২৫৮ একর জমিসহ বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্ত হয়। অন্যদিকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে থাকা ভারতের ৫১টি ছিটমহল ৭ হাজার ১১০ একর জমিসহ ভারতের সঙ্গে যুক্ত হয়। এর ফলে বাংলাদেশে প্রায় ৪০ হাজার এবং ভারতে প্রায় ১৪ হাজার মানুষ নিজ নিজ দেশের নাগরিকত্ব লাভ করেন।
বিলুপ্ত ছিটমহলবাসীরা জানান, সড়ক, বিদ্যুৎ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় কিছু উন্নয়ন হলেও কর্মসংস্থান, বাজার অবকাঠামো ও টেকসই উন্নয়নের ক্ষেত্রে এখনো উল্লেখযোগ্য ঘাটতি রয়েছে। বেকারত্ব দূর করতে নির্মিত আইসিটি ভবন দীর্ঘদিন ধরে কার্যক্রমহীন। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী শিল্পকারখানা বা কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি না হওয়ায় অনেক তরুণ এখনো বেকার।
বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বিলুপ্ত ছিটমহল কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার দাসিয়ারছড়ায় বর্তমানে প্রায় সাত হাজার মানুষের বসবাস। ছিটমহল বিনিময়ের পর এলাকাটি পার্শ্ববর্তী তিনটি ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্ত করা হলেও দাসিয়ারছড়াকে পৃথক ইউনিয়ন ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
জানা গেছে, বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্ত হওয়া ১১১টি বিলুপ্ত ছিটমহলের মধ্যে কুড়িগ্রামে ১২টি, লালমনিরহাটে ৫৯টি, পঞ্চগড়ে ৩৬টি এবং নীলফামারীতে চারটি রয়েছে।
দাসিয়ারছড়ার বাসিন্দা হাফিজুর রহমান বলেন, নাগরিক হিসেবে প্রায় সব সুবিধাই পেয়েছি। এখন আমাদের প্রধান দাবি দাসিয়ারছড়াকে পৃথক ইউনিয়ন ঘোষণা করা।
বাংলাদেশ-ভারত ছিটমহল বিনিময় সমন্বয় কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা বলেন, রাষ্ট্রহীন জীবনের অবসান হলেও উন্নয়নের অনেক প্রতিশ্রুতি এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। দাসিয়ারছড়াকে পৃথক ইউনিয়ন ঘোষণা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি সময়ের দাবি।
কুড়িগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ বলেন, বিলুপ্ত ছিটমহলবাসীর জীবনমান উন্নয়নে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। শিক্ষা, অবকাঠামো ও সামাজিক উন্নয়নের পাশাপাশি ভবিষ্যতেও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।
এমএস/